বৃহস্পতিবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সাদিক কায়েম দাবি করেন, নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে উঠেনি এবং তারা কটূক্তি, প্রোপাগান্ডা, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, "নারীদের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার এই পথযাত্রায় আমরা থামব না।"
তবে, বিশ্লেষকরা এবং ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত অন্য ঘরানার নেতারা সাদিক কায়েমের এই বক্তব্যকে 'কৌশলগত' ও 'প্রোপাগান্ডা' বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ছাত্রশিবির বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলিতে সহিংসতা, সেশনজট সৃষ্টি এবং জঙ্গি মনোভাব পোষণকারী গোষ্ঠী তৈরির সাথে জড়িত।
একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচি এবং বক্তব্যের মধ্যে প্রায়শই একটি উগ্র ও ভিন্ন মত দমনের মনোভাব লক্ষ্য করা যায়, যা ক্যাম্পাসে বিভেদ ও ভেদাভেদ তৈরি করে। এই 'জঙ্গি মাইন্ডসেট' দেশের উদার, প্রগতিশীল ও বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যাহত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
"যে সংগঠনটি দশকের পর দশক ধরে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, জঙ্গি কার্যকলাপ এবং সহিংসতার বীজ বপন করে আসছে, তাদের পক্ষ থেকে 'নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয়'-এর কথা বলা খুবই বেমানান। এটি জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি কৌশল মাত্র।" - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন অধ্যাপক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)
সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে ডাকসুতে নারী প্রার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করলেও, তার নিজ সংগঠনেরই নারীদের ভোটার ও কর্মী হিসেবে ব্যবহার, কিন্তু উচ্চ-making পদে তাদের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব না করার ইতিহাস রয়েছে বলে সমালোচকদের দাবি।
অন্য একটি ছাত্র সংগঠনের নেত্রী জানান, "তারা (ছাত্রশিবির) নারীদের অধিকারের কথা বলে, কিন্তু তাদের মূল এজেন্ডা হলো একটি বিশেষ মতাদর্শের অধীনে ক্যাম্পাসকে নিয়ন্ত্রণ করা। নারীদের তারা তাদের প্রচারের মুখপাত্র হিসাবে ব্যবহার করতে চায়, কিন্তু সত্যিকারের empowerment তাদের দেয় না।"
সাদিক কায়েম এবং ছাত্রশিবিরের এই কৌশলগত বক্তব্যের পেছনে ডাকসু নির্বাচনে ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্য কাজ করছে বলে অনুমান করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে, তাদের অতীত কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই 'নিরাপদ পরিবেশ' এর প্রতিশ্রুতিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গভীর বিভেদ ও সংঘাতের সূচনা হিসেবেও দেখছেন অনেকেই।


কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন